কর্মক্লান্তি থেকে পালাতে – পাহাড়ের উল্টো পিঠে : পর্ব ৬
চান্দা পাড়া থেকে বেরিয়ে ঝরণা দেখার কথা দুইটা… একটা দেখিয়ে বেটা বলে কি, “আমাকে যেতে হবে।” ব্যাটা পয়সাকড়ি বুঝে নিয়ে মানে মানে কেটে পড়লো… অকুল পাথারে পড়লাম।
চান্দা পাড়া থেকে বেরিয়ে ঝরণা দেখার কথা দুইটা… একটা দেখিয়ে বেটা বলে কি, “আমাকে যেতে হবে।” ব্যাটা পয়সাকড়ি বুঝে নিয়ে মানে মানে কেটে পড়লো… অকুল পাথারে পড়লাম।
পাইন্দু হেডম্যান পাড়া থেকে একপ্রকারে বিতাড়িত আমরা বৃষ্টির মধ্যেই পায়দল পরবর্তি পাড়ার উদ্দেশ্যে একাকি রওয়ানা করে বিজিবি ক্যাম্প এড়াতে ফের ঐ পাড়ায়ই ফিরে এলাম। সময়ের সাথে পাল্লা দিতে আমরা বাড়তি দামেই জহির (ছদ্মনাম) মাঝির ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করেই রওয়ানা দিয়েছি পরবর্তি পাড়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু কাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি পড়েছে। খালে এসে সেই…
কোমর পানি দিয়ে পাইন্দু খাল পার হয়ে পাড়াবাসীদের একপ্রকারের ঠেলে সরিয়ে দেয়াকে উপেক্ষা করে আমরা আশ্রয় পেয়েছিলাম পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায়। রাতভর চললো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। সকালেও সেই ধারা অব্যাহত থাকলো। কিন্তু বৃষ্টির প্রস্তুতি না থাকাসত্ত্বেয় এই পাড়াবাসীরা আর আমাদেরকে রাখতে রাজি না। মানে মানে বুঝিয়ে দিয়েছেন কারবারি, আমাদের বেরিয়ে পড়া উচিত। বৃষ্টির মধ্যেই বেরোতে হবে…
পাইন্দু খাল ট্রেক করতে গিয়ে পাহাড়ি ঢল এড়াতে জঙ্গলের সাথে যেভাবে যুদ্ধ করতে হলো, তারপর পথহারা আমরা পথের দিশা পেয়ে এগিয়ে গেলাম একটা পাড়ার দিকে। কোমর পানির স্রোত পেরিয়ে আমরা যখন পাড়ায় পৌঁছলাম, তখন সেই পাড়াবাসীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত আমরা: কোথা থেকে এসেছি? কোথায় যাবো? আমরা এখানে কেন এসেছি? ওদের পাড়ায়ইবা কেন এসেছি? আবু বকরের মতোই আমারও ভ্রু কুঞ্চিত…
রৌদ্র্যোজ্জল শরতের কড়া রোদে পাইন্দু খালের বালুময় প্রান্তরে হাঁটার অভিপ্রায়ে বের হওয়া আমরা চারজন গিয়ে পড়লাম একেবারে পাহাড়ি ঢলে উত্তাল পাইন্দু খালের তোপের মুখে। সেই তোপে পা না দিতে পাশের পাহাড় ধরে চলতে গিয়ে সামনে পড়লো ঘন জঙ্গল। আর সেই ঘন জঙ্গলে ঢুকে বিভিন্ন পথে, বিভিন্নভাবে ঘুরে চেষ্টা করলাম আমরা, কিন্তু ঘন জঙ্গল আমাদের সকল…
ট্রেইলের শুরুতেই বিপত্তি – খাল পানিতে টইটুম্বুর, তাই উঁচু পাড় ধরে এগোনো ছাড়া কোনো গত্যান্তর নেই। সেই উঁচু পাড়ের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হলো। খাড়া ঢাল নেমে গেছে পানিতে, আর সামনেই ঘন ঝোঁপ। আর বেশি সামনে এগোলে পাড় ভেঙে সোজা পানিতে পড়তে হবে। এতো এতো ঢল যে, ওপাড়ে যাওয়ারও উপায় নেই। তাছাড়া বর্ষার কোনো প্রস্তুতিই আমাদের…
লাতুর ট্রেন — ছোটবেলা নানাবাড়ি যাবার বাহন ছিল এই লক্করঝক্কর মার্কা ট্রেন। এখন আমরা মেইল ট্রেন বলতে যেসব ‘খোদার গরু ধর্মের রাখাল’ ট্রেনকে বুঝি, এই ট্রেন ছিল হুবহু তাই। কিন্তু তখন, এখনকার মতো অহরহ বাস ছিল না, ছিল না জনে জনে মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার। তাই লাতুর ট্রেন ছিল খুব সমাদৃত। একটাই মাত্র ট্রেন, সেটাই চলতো…
একটা পরীক্ষা এখনই করে ফেলুন তো… আপনার আশেপাশে যে-ই আছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের নাম শুনেছেন কিনা? বলবেন, হ্যা। এবার সেগুলোর নাম বলতে বলুন। মোটামুটি নিশ্চিত, তিনি সর্বোচ্চ ৪টার বেশি নাম বলতেই পারবেন না। যিনি ৭টাই পারলেন, তাঁকে আপনি সাধুবাদ দিতেই পারেন। …হ্যা, ঘটনা এটাই, প্রাচীনকালের সপ্তাশ্চর্যগুলোর নাম আমরা সবাই শুনেছি, কিন্তু কেউই আসলে জানি…
২০০১ খ্রিস্টাব্দে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই আমার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে একটা পাণ্ডুলিপি লিখে রেখেছিলাম। আজ ১৫ বছর পরে, তখনকার চিত্রের সাথে এখনকার চিত্রের যদিও বিস্তর ফারাক, তখন সেলফি ছিল না, ডিজিট্যাল ক্যামেরা ঘরে ঘরে রমরমা হয়নি, মোবাইল ফোন সবার কাছে ছিল না, ঢাকার রাস্তায় গাছ ছিল না; কিন্তু এই বর্ণনায় সবসময়কারই বিদেশ-বিভূঁই-এর কিছু চিত্র উঠে…
ঢাকায় আসার পরে তিন গোয়েন্দার নাম প্রথম শুনলাম, তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। মামার মুখে শুনতাম, তিনি পত্রিকায় পড়েছেন, তিন গোয়েন্দা পড়ে বাচ্চারা হারিয়ে গেছে। বাচ্চারা গোয়েন্দাগিরি করার জন্য কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে হারিয়ে গেছে। বুঝে নিয়েছিলাম, তিন গোয়েন্দা একটা অভিশাপের নাম। সপ্তম শ্রেণীতে উঠে আইডিয়াল কোচিং-এ যেতাম, সেই খিলগাঁও-এ। সেখানে আমাদের…
কালো মহাকাশ দিয়ে শাঁই শাঁই করে উড়ে যাচ্ছে একটা পিয়ানো আকৃতির বস্তু; আসলে এটা একটা যন্ত্র, একটা স্পেস প্রোব। বুলেটের চেয়েও দ্রুত গতিতে উড়ে যাচ্ছে অসীম মহাকাশের দিকে। আসলে তার যাওয়ারও একটা উদ্দেশ্য আছে, সে যাচ্ছে প্লুটো নামক একটা গ্রহকে কাছ থেকে দেখার জন্য। প্লুটো, আমাদের সৌরপরিবারের এক শিশুর নাম। আজ আমরা তারই গল্প আরেকবার নতুন…
কেউ বলবেন উনি কুসংস্কারে আচ্ছন্ন; কেউ বলবেন উনি কুসংস্কারে অন্ধ। কিন্তু সব কথাকে সবসময় আমল দিলে চলে না। এখন সময় এসেছে ব্যাপারগুলোকে খতিয়ে দেখার: অধ্যাপক আজহার হোসেন তাঁর লেখায় লিখেছেন: একটা কথা বড় আশ্চর্যজনক। উচ্চশিক্ষা এই সব সংস্কার বা কুসংস্কার দূর করতে পারে না। কারণ শিক্ষা হচ্ছে মানসিক বৃত্তির অগ্রগতি। এ সংস্কার কাল্পনিক ভয়-ভীতি থেকে…
প্রতীক নিয়ে একটা বই প্রায় লিখে ফেলেছিলাম, কিন্তু তথ্যভাণ্ডারের এতো দুর্লভ অবস্থা, আর নিজের জ্ঞানের পরিধিও এতো কম যে, শেষ করতে পারিনি। তারই একটি অধ্যায় আমরা আজকে দেখার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। এই লেখাটি প্রথমত তৈরি করা হয়েছিল একটি শিক্ষার্থী সম্মেলনের জন্য অভিভাষণ হিসেবে, পরে অবশ্য তা আর দেয়া হয়ে উঠেনি। দেখা যাক, কেমন লাগে আপনাদের……
এখন আপনার স্মার্টফোনই হবে জিপিএস – শুধু জিপিএস অপশনটা থাকা চাই… ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কও দরকার নেই।
সংযোজন ২৬ আগস্ট ২০১৫: এই লেখাটি নিয়ে পাঠকের বিপুল অভিযোগ। একটা বিষয় একটু জেনে নেয়া দরকার: আমি ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে কিছুই জানি না। একজন সাধারণ দর্শকের অবস্থান থেকে পুরো লেখাটা লেখা। মনে রাখতে হবে, একজন সাধারণ দর্শক ক্যালিগ্রাফির একটা ক্যালেন্ডার কিনে এনে ক্যালিগ্রাফি শেখার বই নিয়ে ক্যালিগ্রাফির জ্ঞান আহরণ করতে বসেন না, বরং প্রচণ্ড ধর্মানুরাগ থেকে…